দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জ্বালানি তেলের দাম ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ আরও কঠোর মুদ্রানীতি নিতে পারে, এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় ১২টা ৬ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৬১ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমেছে। দিনের মধ্যে দাম ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। এদিকে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর কমেছে ০.৫ শতাংশ, প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৩০ ডলারে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, ইরান যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটানোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জ্বালানি তেলের দাম ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এতে স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ সীমিত হবে এবং আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল। সুদ না দেওয়া স্বর্ণে বিনিয়োগের তুলনায় সুদযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ায় উচ্চ বন্ডের সুদহার স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়েছে।
আগের সেশনে ৪ শতাংশ বাড়ার পর বৃহস্পতিবারও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও তাতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজনীয়তার কথা ফেডের কর্মকর্তারাও বলছেন। গভর্নর মাইকেল বার সর্বশেষ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। গত সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ায় এবং চলতি বছর আরও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন ৬৯ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন বাজারের লেনদেনকারীরা।
স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন এই ধাতু সুদযুক্ত বিনিয়োগের তুলনায় কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ইন্তেসা সানপাওলোর অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েলা করসিনি এক নোটে বলেন, তাদের মূল পূর্বাভাস অনুযায়ী মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা থাকবে না। তবে অস্থিরতা উচ্চ থাকতে পারে। আগামী কয়েক প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স গড়ে ৪ হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৪৩ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৪৬ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬৬ দশমিক ৯১ ডলারে উঠেছে।
/অ